বিশতম অধ্যায় আমি-ই সেই ইস্পাত মানব

আমি মার্ভেল বিশ্বে সমুদ্রের রাজা হে পাহাড়ের প্রাচীন দানব। 2503শব্দ 2026-03-06 04:12:04

托নি আর্থারকে কোলে তুলে আকাশে ওবাদিয়ার দিকে উড়ে গেলেন। ওবাদিয়াও বিপদের আভাস পেয়ে দ্রুত উপর দিকে সরে গেলেন, যাতে টোনির থেকে দূরে থাকা যায়।

এদিকে বিশাল লৌহমানবটি সামনে এগিয়ে চলেছে, আর তার পেছনে আর্থারকে জড়িয়ে টনি দ্রুত ধাওয়া করছেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব কমে আসছে। টনি দেখলেন, তার শক্তি মাত্র চার শতাংশ অবশিষ্ট। তিনি সংকল্পবদ্ধ হয়ে শেষ সমস্ত শক্তি দিয়ে গতি বাড়ালেন; মুহূর্তেই তিনি লৌহমানবটির কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন।

আরো কাছে আসতে দেখে, আর্থার টনিকে বলল, ‘‘আমাকে একটু এগিয়ে দাও!’’ আর্থার টনির শরীরের ওপর দাঁড়িয়ে জোরে লাফ দিলেন, তীরের মতো ওবাদিয়ার দিকে ছুটে গেলেন। টনি আর্থারের ধাক্কায় নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছেন।

আর্থার যেন এক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো লৌহমানবটির ওপর আছড়ে পড়ল, এক ঘুষিতে তার পিঠ ভেদ করে বিরাট গর্ত তৈরি করল, এবং তাকে নিয়ে নিচে পড়তে শুরু করল।

আর্থার লৌহমানবটির দেহে পা রেখে ছাদের ওপর জোরে আঘাত করল; ছাদে বিশাল গর্ত হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে পুরো কারখানা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল, আগুনে চারদিক আলোকিত।

নিচে পড়ার আগে আর্থার লৌহমানবটির পিঠ থেকে লাফিয়ে নেমে এলো, ধীরে ধীরে তার সামনে এসে দাঁড়াল। আর্থার তার বুকে থাকা শক্তি-প্রতিক্রিয়ক যন্ত্রটি ধরে টেনে বের করে নিল। সাথে সাথে বিশাল এই যান্ত্রিক বর্ম শক্তিহীন হয়ে পড়ল, আর নড়তে পারল না।

আর্থার দুই হাতে লৌহমানবটির হেলমেটটা টেনে ছিঁড়ে ফেলল। রক্তাক্ত, মৃতপ্রায় ওবাদিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘মরো এবার!’’ এক ঘুষিতে ওবাদিয়ার বুক ভেদ করে দিল।

শক্তি-প্রতিক্রিয়ক যন্ত্রটি হাতে নিয়ে আর্থার কারখানা থেকে বেরিয়ে এলেন। কারখানার আগুন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি পেছনে না তাকিয়ে চলে গেলেন।

তিনি টনিকে খুঁজে পেলেন, যে তখন বনভূমিতে পড়ে ছিল। হাতে থাকা যন্ত্রটি টনিকে দিয়ে বললেন, ‘‘কেমন আছো টনি?’’

‘‘ঠিক আছি, সব শেষ হয়েছে?’’ টনি যন্ত্রটি নিয়ে আবার বর্ম চালু করল।

‘‘সব শেষ, ওই পাশের কারখানাটাতে, সম্ভবত এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছু নেই।’’ আর্থার টনিকে হাত ধরে তুলে দাঁড় করালেন।

‘‘তোমার শরীরের এই শক্তি কেমন? তুমি কি সুপারম্যান?’’ টনি জানতে চাইল।

‘‘তুমি কি কখনও দেখেছো সুপারম্যান ট্যাক্সি ধরে?’’ আর্থার হেসে উত্তর দিল।

টনি আর্থারের চোখে তাকিয়ে বলল, ‘‘বলার ইচ্ছা না থাকলে থাক, চলো, বাড়ি ফেরা যাক।’’

...

স্টার্ক কোম্পানির সম্মেলন কক্ষ।

অনেক সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত, স্টার্ক কোম্পানির সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে। টনি স্টার্ককে গত রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

জেমস রোডি মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রারম্ভিক বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। পাশের বিশ্রামকক্ষে কলসন টনি ও আর্থারকে বলল, ‘‘এটা তোমার বক্তৃতার খসড়া, পড়ে শোনাবে। গতকাল তুমি আভালন দ্বীপে ছুটি কাটাচ্ছিলে, পঞ্চাশজন প্রত্যক্ষদর্শী আছে।’’ কলসন একবার আর্থারের দিকে তাকাল, ‘‘তোমার দেহরক্ষীও তোমার সঙ্গেই ছিল।’’

‘‘ঠিক আছে, কিন্তু ওবাদিয়ার কথা কীভাবে ব্যাখ্যা করব?’’ টনি বক্তৃতার খসড়া হাতে নিল।

‘‘সে ছুটি কাটাতে গিয়েছিল, ছোট বিমানের দুর্ঘটনা তো সাধারণ ঘটনা।’’ কলসন বলল।

রোডি মঞ্চে উঠে বলল, ‘‘এখন স্টার্ক সাহেব তার বক্তব্য রাখবেন, তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেবেন না, ধন্যবাদ!’’

স্টার্ক মঞ্চে উঠে বললেন, ‘‘গতবার সংবাদ সম্মেলন অনেক আগে ছিল, কথা বলতে ভুলে গেছি, দেখে শুনে পড়ে নেই।’’

‘‘অনেকে সন্দেহ করছেন, আমি গতরাতের সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত, আসলে আমি...’’

‘‘দুঃখিত, একটু থামান, আপনি কি মনে করেন, আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করব?’’ সাংবাদিক ক্রিস্টিন টনিকে থামিয়ে দিলেন।

‘‘তোমরা সরকারিভাবে যা বলা হয়েছে, তাতে সন্দেহ করতে পারো, কিংবা আমাকে সুপারহিরো বলেও সন্দেহ করতে পারো! যদিও আমার চরিত্রে অনেক ত্রুটি আছে।’’ টনি বলল।

‘‘কেউ তোমাকে সুপারহিরো বলে সন্দেহ করছে না!’’ ক্রিস্টিন বলল।

রোডি পরিস্থিতি বুঝে টনিকে ইঙ্গিত দিল, খসড়া পড়ে যেতে।

‘‘ঠিক আছে, আসল ব্যাপার হলো...’’ টনি বক্তৃতার কাগজ তুলে কিছুক্ষণ দ্বিধায় থাকলেন।

‘‘আমি-ই লৌহমানব!’’ মুহূর্তেই পুরো হল গমগম করে উঠল, সবাই উত্তেজনায় উঠে দাঁড়ালেন।

আর্থার মঞ্চপেছনে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখছিলেন, আরেকটি কিংবদন্তি মুহূর্ত।

বাকিরা মাথায় হাত দিয়ে কষ্ট পাচ্ছিলেন~

...

স্টার্ক কোম্পানির রেস্তোরাঁ

‘‘আমি কথা দিয়েছিলাম টনিকে রক্ষা করব, কাজটা শেষ করে ফেলেছি।’’ আর্থার দুপুরের খাবার খেতে খেতে সামনাসামনি বসে থাকা কলসনকে বললেন।

‘‘তোমার সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ! কাজটা দারুণ হয়েছে, তবে আমাদের জন্য সমস্যা আরও বড় হয়েছে,’’ কলসন গম্ভীরভাবে বলল।

‘‘কী সমস্যা?’’

‘‘টনি স্টার্ক লৌহবর্ম তৈরি করেছে, সে এখন লৌহমানব! আগে সে ছিল বিজ্ঞানী, প্লেবয়, কিংবা অস্ত্র ব্যবসায়ী; এখন সে এক বিশাল ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।’’

‘‘ঝুঁকি?’’

‘‘হ্যাঁ, আমাদের তদন্তে দেখা গেছে টনি স্টার্কের চরিত্র যথেষ্ট... কঠিন, সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো করে, আমরা নিশ্চিত নই, সে কখনও এই বর্ম পরে বিপজ্জনক কিছু করবে কিনা।’’

‘‘তাহলে আমিও কি তোমাদের বিচারে বিপজ্জনক?’’ আর্থার জানতে চাইল।

‘‘নিশ্চয়ই, তোমার ঝুঁকির মাত্রা টনির চেয়েও বেশি। সেজন্য আমরা তোমাদের মতো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই, মানে সেই প্রতিশোধপরায়ণদের দল, যেটা আগেও বলেছিলাম।’’

‘‘বলছিলে ওই দলে এখন কতজন আছে? বলতে পারো?’’ আর্থার জানতে চাইল।

‘‘এখন মাত্র দু’জন, দু’জনেই আমাদের সংস্থার গোপন এজেন্ট। আমি আবারও অনুরোধ করছি, তুমি আমাদের দলে যোগ দাও।’’

‘‘দুঃখিত, আপাতত কোনো আগ্রহ নেই, পরে ভেবেচিন্তে জানাবো।’’

‘‘ঠিক আছে, কারণ দলটি এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি, কিছু সম্ভাব্য সদস্য নজরদারিতে আছে, তাই তোমাকে জোর করছি না।’’

‘‘তাহলে টনিকে রক্ষা করার দায়িত্ব শেষ, বাকি ভিডিও নিয়ে আমি মাথা ঘামাবো না!’’ আর্থার বললেন।

‘‘ঠিক আছে, পরের কাজের জন্য আমরা লোক পাঠাবো, এ বিষয়ে ও বিশেষজ্ঞ।’’ কলসন আর্থারের অনুরোধ মেনে নিল।

‘‘চমৎকার, অবশেষে একটু বিশ্রাম পাওয়া যাবে!’’ আর্থার খুশি হয়ে বললেন।

‘‘চলো, তোমাকে যার হাতে দায়িত্ব তুলে দেবে, তার সঙ্গে দেখা করাই, সাথে পারিশ্রমিকও দেবে।’’

কলসন গাড়ি নিয়ে আর্থারকে নিয়ে রওনা দিলেন সংস্থার সদর দপ্তরের দিকে।

সিকিউরিটি সংস্থার ১৮ তলা

অবশেষে আর্থার কিংবদন্তি কৃষ্ণবিধবা, নাতাশা রোমানভের সঙ্গে পরিচিত হলেন।

‘‘এই হলেন ইয়ন আর্থার, আর এই আমাদের সংস্থার গোপন এজেন্ট, নাতাশা রোমানভ।’’ নিক ফিউরি পরিচয় করিয়ে দিলেন।

‘‘স্বাগত, আমি আর্থার, আপনার সঙ্গে পরিচয়ে আনন্দিত।’’ আর্থার হাত বাড়ালেন।

‘‘আপনাকেও দেখে ভালো লাগছে।’’ নাতাশা হাত মিলিয়ে হাসলেন।

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণবিধবা ঠিক সিনেমার মতোই সুন্দর, মন কেড়ে নেওয়ার মতো; কিন্তু তার বয়স চিন্তা করে আর্থার নিজের মনকে সংযত রাখলেন।

‘‘ঠিক আছে, এবার থেকে দায়িত্বটা তোমার, নাতাশা,’’ নিক ফিউরি নির্দেশ দিলেন। নাতাশা মাথা নাড়লেন।

‘‘এবারের জন্য তোমাকে বিশেষ ধন্যবাদ, এই ঘটনার জন্য আমরা তোমার কাছে ঋণী। ভবিষ্যতে কিছু দরকার হলে আমাদের জানাবে। পারিশ্রমিক তোমার অ্যাকাউন্টে জমা হবে। আর কিছু কি চাও?’’

‘‘হ্যাঁ, আমি বিমান চালাতে চাই!’’ আর্থার গম্ভীরভাবে বললেন।

‘‘...’’ নিক ফিউরি অবাক হয়ে ভাবলেন, এমন প্রশ্নও কেউ করে!

পরবর্তী এক সপ্তাহ আর্থার সত্যিই সংস্থায় থেকে গাড়ি ও বিমানের লাইসেন্স পেলেন; যদিও বিমান চালানোর সুযোগ দেয়ার প্রশ্নে নিক ফিউরি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সেটা সম্ভব নয়।