পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়: লোকিকে আটক করা

আমি মার্ভেল বিশ্বে সমুদ্রের রাজা হে পাহাড়ের প্রাচীন দানব। 3233শব্দ 2026-03-06 04:13:01

নাতাশা যুদ্ধ পরিবহনযান চালিয়ে স্টিভ রজার্স, টনি স্টার্ক এবং ধরা পড়া লোকিকে নিয়ে ফিরছিলেন। স্টিভ রজার্স বিমানে চুপচাপ বসে থাকা লোকির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘আমার মনে হচ্ছে কিছু একটা ভালো নয়।’’

‘‘কেন, কারণ সে এত সহজেই আত্মসমর্পণ করল?’’ জিজ্ঞেস করল টনি স্টার্ক।

‘‘আমি মোটেও মনে করি না ওটা সহজ ছিল। এই লোকটা যথেষ্ট শক্তিশালী,’’ বলল স্টিভ রজার্স।

‘‘তবু তুমি তো বয়সের সাথে সাথে বেশ ফুরফুরে আছো, কীভাবে নিজেকে গড়েছ? পিলেটস করো?’’ টনি মজা করে বলল।

‘‘পিলেটস কী?’’ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল স্টিভ রজার্স।

‘‘এটা অনেকটা অ্যারোবিক্সের মতো। সম্ভবত তুমি অনেক কিছু মিস করেছো, শেষমেষ এতদিন ধরে বরফের নিচে ছিলে তো!’’ টনির কণ্ঠে ছিল বিদ্রুপ।

ঠিক তখনই আকাশে ঝলমলে বজ্রের রেখা ছুটে গেল, সঙ্গে বজ্রধ্বনি।

‘‘এত বজ্রপাত কোথা থেকে এলো?’’ নাতাশার মনে সন্দেহ জাগল।

লোকি বজ্রপাত দেখে বিস্মিত হলো। স্টিভ রজার্স সেটা লক্ষ করে বলল, ‘‘তুমি কি বজ্রপাতকেও ভয় পাও?’’

‘‘আমি কেবল বজ্রপাতের সাথে আসা ব্যক্তিটিকে অপছন্দ করি,’’ সংক্ষেপে উত্তর দিল লোকি।

ঠিক তখনই বিমানের ছাদে কিছু ভারী কিছু পড়ার শব্দ হলো।

স্টিভ রজার্স ও টনি স্টার্ক একে অন্যের দিকে তাকাল। টনি স্টার্ক হেলমেট পরে বিমানের দরজা খুলল। স্টিভ রজার্স জিজ্ঞেস করল, ‘‘তুমি কী করতে যাচ্ছো?’’

দরজা খুলতেই বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করল—প্রকাণ্ড দেহ, বজ্রের দেবতা থর। সে একটি আঘাতে টনিকে মাটিতে ফেলে দিল এবং লোকির গলা চেপে ধরে তাকে বিমানের নিচে নামাতে শুরু করল।

‘‘আবার নতুন ঝামেলা হাজির হলো!’’ হতাশাভরা স্বরে বলল টনি।

‘‘সে কি আসগার্ডবাসী?’’ প্রশ্ন করল নাতাশা।

‘‘তুমি কি ওকে চেনো? সে কি আমাদের মিত্র?’’ স্টিভ রজার্স জানতে চাইল।

‘‘সেটা বড় কথা নয়। সে লোকিকে মেরে ফেলুক বা ছেড়ে দিক, মহাবিশ্বের ঘনক আর ফেরত পাওয়া যাবে না,’’ বলল টনি।

‘‘আমাদের একটা পরিকল্পনা দরকার!’’ দৃঢ় স্বরে বলল স্টিভ রজার্স।

‘‘আমার পরিকল্পনা—প্রত্যাঘাত!’’ বলেই টনি নিচে থরের দিকে উড়ে গেল।

স্টিভ রজার্স অসহায়ভাবে প্যারাশুট পিঠে নিয়ে ঢাল হাতে নিল।

‘‘তুমি যেও না, ওরা দুজনই কিংবদন্তি, ঈশ্বর!’’

‘‘ঈশ্বর একজনই, যিশু। আর ঈশ্বর এত রঙিন পোশাক পরেন না, মিস,’’ বলেই স্টিভ রজার্সও প্লেন থেকে লাফ দিলেন।

থর লোকিকে নিয়ে মাটিতে নামল, গর্জে উঠল, ‘‘মহাবিশ্বের ঘনক কোথায়?’’

‘‘তুমি আমার কাছে কৃতজ্ঞ হতে পারো, রামধনু সেতু নেই, তবুও তুমি তোমার প্রিয় পৃথিবীতে আসতে পেরেছো,’’ বলল লোকি।

‘‘আমি ভেবেছিলাম তুমি মরেছো!’’

‘‘তুমি কি আমার জন্য শোক প্রকাশ করেছিলে?’’

‘‘আমি শোক করেছি! এবং আমাদের পিতার জন্যও!’’

‘‘সে তোমার পিতা! সে কি তোমাকে আমার পরিচয় জানিয়েছিল? আমি সারাজীবন তোমার ছায়ায় বেঁচেছি! আমি শুধু মনে করি তুমি আমাকে খাদে ঠেলে দিয়েছিলে! আমি তো রাজা হওয়ার কথা ছিল!’’

লোকির কণ্ঠ ক্রমে উত্তেজিত হয়ে উঠল।

‘‘তুমি মনে করো আমি তোমাকে অবজ্ঞা করি? প্রতিশোধ নিতে আমার প্রিয় পৃথিবী ধ্বংস করছো? আমি পৃথিবীকে রক্ষা করব,’’ বলল থর।

‘‘হা হা হা! দারুণ রক্ষা করছো! মানুষ একে অপরকে হত্যা করছে, তুমি চুপচাপ দেখছো, আমি তাদের শাসন করতে চাইলে দোষ কী?’’

‘‘তুমি কি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করো? তুমি শাসনের আসল অর্থ বোঝো না, ভাই! ফিরে এসো!’’

ঠিক তখন, টনি দ্বারা ছোড়া লাল আলোয় থর উড়ে গিয়ে পড়ল।

‘‘এটা তোমার ব্যাপার না!’’ বলে থর উঠে দাঁড়াল এবং তার হাতুড়ি ছুঁড়ে টনিকে আঘাত করল। হাতুড়ি আবার নিজের হাতে ফিরে এলো। ইস্পাতমানব ডান হাত তুলে প্রবল শক্তি ছুড়ে থরকে গাছের ওপর ছুড়ে মারল। টনি তার পিছু নিল, এক লাথিতে থরকে গাছ ভেঙে দিল।

থর হাতুড়ি তুলে বজ্র ডেকে আনল এবং টনির বর্মে বিদ্যুৎ বর্ষণ করল। টনি অবাক হয়ে দেখল, তার বর্মের শক্তি চারশো শতাংশে পৌঁছেছে! আশ্চর্য, বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ হচ্ছে!

টনি দুই হাত ও বুক থেকে একসঙ্গে প্রবল শক্তি ছুড়ে থরকে মাটিতে ফেলে দিল। থর সামলে নিয়ে আবার টনির দিকে ছুটল, দুজন আকাশে লড়াই করতে করতে মাটিতে এসে পড়ল। তাদের যুদ্ধে গাছপালা একের পর এক ভেঙে পড়ল।

ঠিক তখনই স্টিভ রজার্স এসে বলল, ‘‘এবার যথেষ্ট! থামো! কী করতে চাও?’’

‘‘আমি লোকির ষড়যন্ত্র শেষ করতে এসেছি!’’ বলল থর।

‘‘তাহলে সেটা কাজে দেখাও, হাতুড়ি নামাও,’’ বলল স্টিভ রজার্স।

‘‘তুমি আমাকে হাতুড়ি নামাতে বলছো?’’ থর রেগে গেল। পাশে টনি সতর্ক করতে চাইল, কিন্তু দেরি হয়ে গেল।

বজ্রের দেবতা লাফিয়ে উঠে হাতুড়ি দিয়ে স্টিভ রজার্সকে আঘাত করল। স্টিভ ঢাল তুলে ধরল, হাতুড়ির প্রবল আঘাত ঢালে পড়ল, প্রতিঘাতে থর ছিটকে গেল, চারপাশের দশ মিটার জুড়ে গাছপালা মুহূর্তে ভেঙে পড়ল।

তিনজন আবার উঠে দাঁড়াল।

‘‘এবার শেষ?’’ জিজ্ঞেস করল স্টিভ রজার্স।

থর অবশেষে তাদের সঙ্গে মিলে মহাবিশ্বের ঘনক খোঁজার সিদ্ধান্ত নিল। তারা ফিরে গিয়ে দেখে লোকি তখনো সেখানেই দাঁড়িয়ে, পালানোর চেষ্টা করেনি।

তারা লোকিকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল আকাশমাতা জাহাজে, গোলাকার বুলেটপ্রুফ কাচের কারাগারে আটকে দিল। এই কারাগারটি বিশেষভাবে ব্রুস ব্যানারকে আটকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

নিক ফিউরি সুইচ টিপতেই কারাগারের নিচে গোলাকার দরজা খুলে গেল।

নিক ফিউরি হুমকি দিল, ‘‘তুমি যদি কাচের গায়ে একটু ছুঁয়েও দাও, পুরো কারাগার বিশ হাজার ফুট ওপরে থেকে পড়ে যাবে।’’

‘‘কারাগারটি চমৎকার, তবে আমার জন্য তৈরি হয়নি নিশ্চয়ই,’’ বলল লোকি।

‘‘এটা তোমার থেকেও ভয়ংকর এক দানবের জন্য বানানো,’’ জবাব দিল নিক ফিউরি।

এই কথোপকথন মনিটরে দেখছিলেন ব্রুস ব্যানার ও অন্যরা।

‘‘তুমি আমাদের জগতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছো! তুমি এমন শক্তি নিয়েছো যা তোমার নয়, শান্তি দাবি করো কিন্তু রক্তপাত উপভোগ করো, আমাকে চরম সীমায় ঠেলে দিয়েছো—এর জন্য তোমাকে অনুতাপ করতে হবে!’’ বলল নিক ফিউরি।

‘‘অর্জিত জিনিস হারিয়ে ক্রোধ? মহাবিশ্বের ঘনক পেয়ে তার শক্তি দিয়ে কী করবে? সারা মানবজাতিকে তার প্রকৃত শক্তি দেখাবে?’’ ঠাট্টা করে বলল লোকি। টনি ও তার সঙ্গীরা শুনে মনে মনে চিন্তিত হলো।

‘‘থর, লোকির আসল উদ্দেশ্য কী?’’ জিজ্ঞেস করল স্টিভ রজার্স।

‘‘তার কাছে এক বাহিনী আছে—চিতাুরি। তারা আসগার্ডীয় নয়, ভিনগ্রহী। লোকি এই বাহিনী নিয়ে পৃথিবী আক্রমণ করতে চায়,’’ বলল থর।

‘‘বাহিনী! এবং সেটা মহাকাশ থেকে এসেছে!’’ স্টিভ রজার্স উদ্বেগে বলল।

‘‘তাকে একটা টেলিপোর্টাল তৈরি করতে হবে, এ জন্যই সে এরিক সেলভিগকে নিয়ে গেছে,’’ বিশ্লেষণ করল ব্রুস ব্যানার।

‘‘এরিক? সে আমার বন্ধু,’’ বলল থর।

‘‘লোকি তার ওপর যাদু করেছে, তাকে ও আমাদের এক সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করছে,’’ বলল নাতাশা।

‘‘লোকি এত সহজে আত্মসমর্পণ করল, এটা সন্দেহজনক নয়?’’ প্রশ্ন করল স্টিভ রজার্স।

‘‘এটা তো স্বাভাবিক! লোকির মাথা ঠিক নেই, সে তো পাগল!’’

‘‘ভাষা ঠিক রাখো! লোকি যতই বিভ্রান্ত হোক, সে আসগার্ডীয়, সে আমার ভাই!’’ দৃঢ়স্বরে বলল থর।

‘‘সে দুই দিনে আশি জনকে হত্যা করেছে,’’ সঙ্গে সঙ্গে বলল নাতাশা।

‘‘ওহ, সে দত্তক নেওয়া...’’ অস্বস্তিতে বলল থর।

‘‘তবে সে ইরিডিয়াম চাইছে কেন?’’ জানতে চাইল ব্যানার।

‘‘ইরিডিয়াম হলো স্থিতি রক্ষাকারী, টেলিপোর্টাল স্থায়ী রাখতে সাহায্য করে,’’ বলল টনি স্টার্ক।

‘‘ইরিডিয়াম দিয়ে লোকি টেলিপোর্টাল যত বড় চাইবে করতে পারবে, যতক্ষণ চাইবে ততক্ষণ রাখতে পারবে,’’ বলল স্টার্ক।

‘‘তার সেটা ১২০ মিলিয়ন ডিগ্রি গরম করতে হবে কুলম্ব বাধা অতিক্রমের জন্য,’’ যোগ করল ব্যানার।

‘‘অন্তত একজন ঠিকমতো বুঝছে,’’ বলে টনি ব্যানারের সঙ্গে করমর্দন করল।

বাকিরা কিছুই বুঝল না।

ব্যানার ও স্টার্ক লোকির রাজদণ্ড থেকে গামা রশ্মি ট্র্যাক করে মহাবিশ্বের ঘনক খুঁজতে লাগল।

তাদের বোঝাপড়া চমৎকার, টনি ব্যানারকে খুব পছন্দ করল, এমনকি নিজের পরীক্ষাগারে আমন্ত্রণ জানাল। ব্যানার বলল, ‘‘শেষবার নিউ ইয়র্কে গিয়ে কয়েকটা রাস্তা গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম।’’

ব্যানার এখনো ভাবছিল লোকির কথা—শিল্ড মহাবিশ্বের ঘনক দিয়ে কী করছে? টনিও এই প্রশ্নে চিন্তিত।

‘‘আমি খুঁজে দেখব। শিল্ডের এনক্রিপ্টেড ফাইল ভেঙে ফেললেই সব জানতে পারব,’’ বলল টনি।

‘‘আমার মনে হয় লোকি চায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের আদেশ পালন করতে হবে!’’

‘‘আমি আদেশ মানার লোক নই,’’ বলল টনি।

‘‘তুমি কেবল নিজের ধারা নিয়ে ভাবো, তাই তো?’’ চ্যালেঞ্জ জানাল স্টিভ রজার্স।

‘‘এই ঘরে কেবল তুমিই অকার্যকর আর বাহারী পোশাক পরে আছো,’’ বিদ্রুপ করল টনি।

‘‘স্টিভ, তুমি সত্যিই অদ্ভুত কিছু মনে করো না?’’ বলল ব্যানার।

‘‘...ঘনক খুঁজে পেলেই হবে।’’

স্টিভ রজার্স বাইরে চলে গেল, যদিও তার মনেও কৌতুহল জাগল—শিল্ড আসলে মহাবিশ্বের ঘনক দিয়ে কী করতে চায়? কিছুক্ষণ ভেবে, সে হঠাৎ ঘুরে গিয়ে জাহাজের গোপন গুদামের দিকে রওনা দিল।